Site icon Food & Culinary Arts Gurukul [ খাদ্য ও রন্ধনশিল্প গুরুকুল ] GOLN

ভুট্টা মিলিং

ভুট্টা মিলিং

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় ভুট্টা মিলিং

ভুট্টা মিলিং

ভুট্টা মিলিং

ভুট্টা মিলিং করলে ভুট্টা থেকে ভুট্টার আটা পাওয়া যায়। এটি গম ভাঙানোর মিলে করতে হয়। তবে ভুট্টা ভাঙানোর জন্য ভিন্ন ধরনের চাকতি ব্যবহার করা হয়। ভুট্টা থেকে আটা তৈরির দুই ধরনের পদ্ধতি রয়েছে। যথা-শুকনা মিলিং ও ভিজা মিলিং।

শুকনা মিলিং

ভুট্টা থেকে আটা তৈরির জন্য শুকনা মিলিং পদ্ধতিকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা (ক) ভ্রূণ সহ মিলিং ও (খ) ভ্রূণ ছাড়া মিলিং।

ভ্রূণসহ মিলিং করে যে আটা পাওয়া যায় তা বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায় না, কারণ ভ্রূণে ৮৫% তেল জাতীয় পদার্থ থাকে। তাই ভুট্টা ভ্রূণ ছাড়া শুকনো মিলিং পদ্ধতিতে ভাঙানো হয়ে থাকে। জার্ম সেপারেটরের সাহায্যে ভুট্টার ভাঙা দানা ও স্টার্চ থেকে ভ্রূণকে আলাদা করা যায়। ভুট্টার দানা প্লেট গ্লাইন্ডার বা চাকতির মাধ্যমে গুঁড়া করা হয়।

চাকতি যত বেশি জোরে ঘুরবে আটার কণা তত সূক্ষ্ম হয়। চাকতি যদি প্রতি মিনিটে ৫০০-৬০০ আর পি এম (রোটেশন পার মিনিট) এ ঘুরে তবে আটার মান ভালো হয়। যদি চাকতির গতি এর চেয়ে কম হয় তবে আটার কণা মোটা হয়। চাকতির গতি যদি ৩০০ আরপিএম হয় তবে আটার পরিমাণ ১৪.৫-২০ ভাগে নেমে আসে।

চাকতির গতির সাথে ভুট্টার আটা ও সুজির পরিমাণ নির্ভর করে। তা নিম্নের সারণিতে দেখানো হলো-

 

ভুট্টার আটায় গ্লুটেন কম থাকে। তাই গমের আটার চেয়ে ভুট্টার আটা তাড়াতাড়ি বেশি পরিমাণে পানি শোষণ করে। গমের ১০০ গ্রাম আটা যেখানে ৫০ মি.লি. পানি শোষণ করতে পারে সেখানে ভুট্টার আটা ১২০ মি.লি পানি শোষণ করে। ভুট্টার আটা মিলিং করার পর পরই কোন পাত্রে বন্ধ রাখলে আটা দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

তাই মিলিং-এর পর এ আটা ওলট-পালট করে কয়েক ঘণ্টা রোদে শুকিয়ে নিতে হয়। ভুট্টার আটায় গ্লুটেন না থাকার করাণে এর সাথে ২০ ভাগ গমের আটা মিশিয়ে রুটি তৈরি করতে হয়। এ ধরনের মিশ্রিত আটার রুটি অনেক সময় নরম হয়। নিম্নে ভুট্টার শুকনা মিলিং-এর প্রবাহ চিত্র দেওয়া হলো।

 

 

ভিজা মিলিং

এ পদ্ধতিতে ভুট্টা মিলিং করার জন্য ভিজানো হয়ে থাকে। এ পদ্ধতির বিভিন্ন ধাপগুলো নিয়ে বর্ণনা করা হলো-

১. ভুট্টা সংগ্রহকরণ : পুষ্ট, দোষমুক্ত উন্নত মানের ভুট্টা সংগ্রহ করতে হবে ।

২. ভুট্টা শুষ্ক ও পরিষ্কারকরণ : ভালোভাবে রোদে বা প্রয়োজনে যান্ত্রিক ড্রায়ারে ৪৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় শুকানো ভুট্টা ভালোভাবে ঝেড়ে ধুলাবালি, কাঁকর বা খড়কুড়া, পোকামাকড়ের মল ও লোম ইত্যাদি পরিষ্কার করতে হবে।

৩. ভুট্টা ভিজানো বা স্টিপিং : প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ভুট্টাকে ৩০-৪০ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। এ সময় যাতে ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাক জন্মাতে না পারে সেজন্য ০.১% হারে সালফার ডাই-অক্সাইড দ্রবীভূত করে দেয়া হয়। ভুট্টা পানিতে ভিজালে দানার আয়তন বেড়ে যায় এবং খোসা, আঁশ ও অঙ্কুর বা ভ্রূণ ইত্যাদি আলাদা করা সহজ হয়।

৪. অঙ্কুর বিচ্ছিন্নকরণ : ভেজানো ভুট্টা দানাকে হালকাভাবে ভেঙে ফেলা হয়। এর ফলে দানা থেকে ভ্রূণের অংশটি আলাদা হয়ে যায়। এরপর ভ্রূণ আলাদাকরণ বা জার্ম সেপারেটর মেশিন দ্বারা ভুট্টার ভ্রূণ ও স্টার্চ আলাদা করা হয় ।

৫. অঙ্কুর আলাদাকরণ : তেল সমৃদ্ধ ভুট্টার ভ্রূণগুলো ভালো করে চিকন চালনি দিয়ে ছেঁকে ধুয়ে পরিষ্কার করে আলাদা করা হয়। মোটা কাপড়ের সাহায্যে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে স্টার্চ মুক্ত করা হয়। তারপর ভ্রূণ থেকে নিষ্কাশন পদ্ধতিতে ভুট্টার তেল আহরণ করা হয় এবং পশুখাদ্য হিসেবে খৈল পাওয়া যায় ।

৬. মিলিং : অবশিষ্ট ভুট্টার কণা ও খোসাসহ পানির দ্রবণ থেকে সেন্ট্রিফিউজ মেশিন দ্বারা গ্লুটেন আলাদা হয়।

৭. স্টার্চ ড্রাইং : গ্লুটেন অপসারণের পর উক্ত ভুট্টার স্টার্চ ড্রায়ার দ্বারা শুকিয়ে বিশুদ্ধ স্টার্চ বা ভুট্টার আটা পাওয়া যায়। সুতরাং একই সাথে ভুট্টার তেল, খৈল, আমিষ ও স্টার্চ (মোচ চারটি পদার্থ)
পাওয়া যায়।

৮. প্যাকেজিং : এরপর এই আটা শুকিয়ে বাজারজাত করা হয়। অথবা এই আটা কর্ন সিরাপ, ডেক্সট্রোজ, স্টার্চ, কাগজ গাম বা খাদ্যদ্রব্য তৈরিতে ব্যবহার হয়।

ভুট্টার ভিজা মিলিং ফ্লোচার্ট নিম্নে দেওয়া হলো-

 

Exit mobile version